ইউক্রেন সংকট: ট্রাম্পের চোখে ‘স্থায়ী শান্তিচুক্তি’, ম্যার্ৎসের কাছে ‘যুদ্ধবিরতি’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধাবসানের পথে এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়, বরং একটি টেকসই স্থায়ী শান্তিচুক্তিই এই সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধান। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস এই বক্তব্যের সঙ্গে খানিকটা দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, যেকোনো আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে একটি যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পথে পৌঁছানোর একটি উপায় হিসেবে দেখি। আমি নিজে যুদ্ধবিরতি সমর্থন করি কারণ এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা যায়। তবে আমি এটাও বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত আমাদের এমন একটি টেকসই শান্তিচুক্তি প্রয়োজন যা স্থায়ীভাবে এই যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ করতে পারে।”

ট্রাম্পের মতে, এই শান্তিচুক্তি সম্ভব। তিনি মনে করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এটি সম্পন্ন হতে পারে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস। তিনি মনে করেন, যেকোনো আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে অন্তত একটি যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের বৈঠকের কিছুক্ষণ আগেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ম্যার্ৎস বলেন, “আমরা সবাই যুদ্ধবিরতি চাই। আমি কল্পনাও করতে পারি না যে কোনো যুদ্ধবিরতি ছাড়া আমরা পরবর্তী কোনো বৈঠকে বসতে পারব। এজন্যই রাশিয়াকে চাপ দেওয়া প্রয়োজন।”

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ট্রাম্প ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। এর আগেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ও ম্যার্ৎস উভয়ই ইউক্রেন যুদ্ধাবসান ইস্যুতে নিজ নিজ অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।

যুদ্ধবিরতি যেখানে সাময়িকভাবে সংঘাত থামায়, সেখানে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুলে দেয়। ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে, ইউক্রেনকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একই সঙ্গে একটি টেকসই শান্তির পথে হাঁটার জন্য এমন একটি চুক্তির প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল আলোচনার মাধ্যমেই এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

অন্যদিকে, ম্যার্ৎসের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়াকে যদি আলোচনার টেবিলে আনা এবং কোনো ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে হয়, তাহলে আগে যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তেজনা প্রশমিত করা জরুরি। আর তার জন্য যুদ্ধবিরতিই একমাত্র কার্যকর পদক্ষেপ। এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই এখন ইউক্রেন সংকট সমাধানের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে