নতুন বিপাকে শিল্পা শেঠি ও রাজ কুন্দ্রা, ৬০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ!
ফের একবার আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি এবং তার স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা। এবার তাদের বিরুদ্ধে উঠল এক বড়সড় প্রতারণার অভিযোগ, যার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৩ কোটি টাকারও বেশি। এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই মুম্বাইয়ের জুহু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা এখন মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখায় (Economic Offenses Wing) স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এক ব্যবসায়ী, নাম দীপক কোঠারি, এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই দীর্ঘ আট বছরে শিল্পা ও রাজ কুন্দ্রা তার কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। দীপক কোঠারীকে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই প্রলোভনে পড়ে তিনি কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ী রাজ ও শিল্পার কথায় বিশ্বাস করে তাদের ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, বিনিয়োগের সেই টাকা নিজেদের ব্যক্তিগত খরচ এবং বিলাসিতার কাজে ব্যবহার করেছেন শিল্পা ও রাজ কুন্দ্রা। দিনের পর দিন ধরে এই প্রতারণার শিকার হওয়ার পর অবশেষে দীপক কোঠারি মুম্বাই পুলিশের দ্বারস্থ হন।
মামলাটির তদন্ত শুরু হওয়ার পর মুম্বাই পুলিশ শিগগিরই শিল্পা শেঠি এবং রাজ কুন্দ্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বলিউডে আবারও শোরগোল শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও তা অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘হটশট’ নামের একটি বিনোদন অ্যাপে পর্ন ভিডিও তৈরি করে দেশ-বিদেশে বিক্রি করা হতো, যার মালিক ছিলেন রাজ কুন্দ্রা। প্রায় দুই মাস জেলে থাকার পর তিনি জামিন পান। তবে সেই মামলায় আর্থিক আত্মসাতের তদন্ত এখনো চলছে এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) একাধিকবার শিল্পা ও রাজের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এছাড়াও, রাজ কুন্দ্রার নাম বিটকয়েন দুর্নীতিতেও জড়িয়েছিল।
শিল্পা শেঠি তার স্বামী রাজ কুন্দ্রার পাশে বরাবরই শক্তভাবে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু একের পর এক এই অভিযোগগুলো তাদের জনজীবনে এবং কর্মজীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলছে। নতুন এই ৬০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তাদের জন্য আরও বড় আইনি এবং সামাজিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের ফলাফল কী হয়, তা জানতে সবার আগ্রহ এখন তুঙ্গে।