নদী গর্জে উঠেছে তিস্তা, পানিবন্দী পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ফের ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। বুধবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তাপারের প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আবারও বন্যার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা
সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, তবে ৯টার মধ্যে তা কিছুটা কমে ৫ সেন্টিমিটারে নেমে আসে। এর আগে ৩ আগস্টও নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল, কিন্তু পরে পানি কমে যায়। এবার আবারও পানি বাড়ায় নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে মানুষজন। তিস্তা নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, কিন্তু বর্তমানে তা ৫২ দশমিক ২০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তার এমন ভয়াবহ রূপে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও মানুষের আতঙ্ক
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এতে ঝাড়সিংহেরস্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের বোল্ডারের চর, খোকার চর, খাড়াপাড়া, ফ্লাটপাড়াসহ বিভিন্ন চরের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানির এমন অব্যাহত বৃদ্ধিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে নদীর কয়েকটি নতুন চ্যানেল তৈরি হয়েছে, যা পূর্বখড়িবাড়ী মৌজার অনেক আবাদি জমি ডুবিয়ে দিয়েছে। তিনি এবং স্থানীয়রা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে এসব চ্যানেল বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডও তাদের এই কাজে সহযোগিতা করছে। তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, লাগাতার ভারী বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
তবে নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষজন শঙ্কায় রয়েছে। তাদের দিন কাটছে নির্ঘুম আর অনিশ্চয়তায়।