নরওয়ের ফুটবল মাঠে মানবিকতার বার্তা: গাজার জন্য ইসরায়েল ম্যাচের আয় দান
গাজা উপত্যকায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার মুখে নীরব থাকতে পারল না নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ১১ অক্টোবর অসলোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ আয় গাজার সাধারণ মানুষের জন্য দান করা হবে। নরওয়ের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি ইসরায়েলের ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে এসেছে কড়া প্রতিক্রিয়া।
দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৮৮৫ জনই শিশু। লাখ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ এবং শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে বহুগুণ। এই পরিস্থিতিতে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজার সাধারণ মানুষের ওপর যে ভয়াবহ আক্রমণ চলছে এবং যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তাতে আমরা চুপ থাকতে পারি না। গাজায় জীবন বাঁচাতে কাজ করা মানবতাবাদী সংগঠনগুলোকে আমরা আমাদের আয়ের অর্থ দান করতে চাই।”
নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশন কটাক্ষ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “নিশ্চিত করুন অর্থটা যেন কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে না পড়ে কিংবা তিমি শিকারে ব্যয় না হয়।” ইসরায়েলের এই মন্তব্য নরওয়েকে তিমি শিকারের কারণে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের হোম ম্যাচ নরওয়ের মাটিতেই খেলছে।
নরওয়ের এই পদক্ষেপ যখন বিশ্বজুড়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন ইতালির সকার কোচেস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসি) ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তারা এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে উয়েফা ও ফিফায় এ দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ফুটবলকে প্রায়শই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি খেলা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি ও মানবিকতার সম্পর্ক কতটা গভীর। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী নৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এটি ফুটবলকে শুধুমাত্র একটি খেলা না রেখে, মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একইসাথে, ইতালির মতো অন্যান্য দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলোও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি একদিকে যেমন গাজার মানুষের দুর্দশার প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তেমনি ইসরায়েলের ক্রীড়াঙ্গনেও চাপ সৃষ্টি করেছে।