পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি! ফ্লোরিডায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক মন্তব্য, ভারতকেও দিলেন হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের মতো গুরুতর হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শনিবার (৯ আগস্ট) টাম্পায় আয়োজিত একটি ডিনার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি, তাহলে অর্ধেক দুনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যাব।” তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।
ফিল্ড মার্শাল মুনির তার বক্তব্যে শুধু পারমাণবিক হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহ নিয়েও ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি থেকে সরে এসেছে। এর ফলে পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে। মুনির বলেন, সিন্ধু নদীতে ভারত যদি কোনো বাঁধ তৈরি করে পাকিস্তানের পানি প্রবাহে বাধা দেয়, তাহলে পাকিস্তান তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, “ভারতের বাঁধ তৈরি হলে আমরা সেখানে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে তা ধ্বংস করবো। সিন্ধু নদী ভারতের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
ডিনারে প্রায় ১২০ জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অংশ নেন, যেখানে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ঘটে যাওয়া চার দিনের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে মুনির অভিযোগ করেন যে, ভারত তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত গোপন করছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি আবারও আক্রমণ চালায়, তাহলে পাকিস্তান আরও কঠোর জবাব দেবে। তিনি জানান, “আমরা ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করবো, এরপর পশ্চিমে অগ্রসর হবো।”
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, ফিল্ড মার্শাল মুনির আগামী দিনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি ফিল্ড মার্শাল খেতাব পান। রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “যুদ্ধ যেমন শুধু জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, তেমনি রাজনীতিও কেবল রাজনীতিকদের হাতে থাকা উচিত নয়।”
একই সময়ে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সেনাবাহিনীকে দ্রুত গাজা সিটি দখলের নির্দেশ দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।