পুলিশের নির্যাতনে জনি হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন বহাল, কমেছে একজনের সাজা
রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশের হেফাজতে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায়ে, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এটি এই আইনের অধীনে হাইকোর্টের দেওয়া প্রথম রায়, যা বিচার বিভাগ এবং মানবাধিকার রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (১১ আগস্ট), বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এবং বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে, পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামান-এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়াও, আরেক আসামি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল হাসানের যাবজ্জীবন দণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আদালত শুধুমাত্র সাজা বহাল রাখেননি, বরং ভুক্তভোগী জনির পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণেরও আদেশ দিয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি জাহিদুর রহমান ও কামরুজ্জামানকে দুই লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাশেদুল হাসানকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তবে, মামলার আরেক আসামি পুলিশের সোর্স রাসেলকে ৭ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি সুমন তার সাজাভোগ করে আগেই কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন।
এই মামলার রায়টি দুই দিন ধরে ঘোষণা করা হয়। রোববার এবং সোমবার, উভয় দিনই আদালতের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই রায়টি একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফসল। এর আগে, গত ৭ আগস্ট এই মামলার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয় এবং রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আদালতে এই মামলার শুনানিতে আসামিদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান, সরওয়ার আহমেদ, মো. আবদুর রাজ্জাক ও নাজমুল করিম অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার। ভুক্তভোগী জনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম।