ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ যেন কিছুতেই নামছে না। সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় পাকিস্তান আবারও ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশপথ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Civil Aviation Authority) এই সিদ্ধান্তের কথা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় এয়ারলাইন্স পরিচালিত সব ধরনের বাণিজ্যিক এবং সামরিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশপথে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, ভারতীয় মালিকানাধীন বা ভাড়া করা বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী অনেক বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এর ফলে সময় এবং জ্বালানি দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে টিকিটের দামেও। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের রুটে চলাচলকারী ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছে।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞার সূচনা হয়েছিল গত ২৩ এপ্রিল। পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন তীব্র উত্তেজনা চলছিল, তখন পাকিস্তান প্রথমবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর এর পাল্টা জবাব হিসেবে ভারতও গত ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে দুই দেশই পর্যায়ক্রমে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে। প্রথমবার এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছিল ২৩ মে পর্যন্ত। এরপর আরও এক মাস বাড়িয়ে এখন তা ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের তিক্ততাকেই আরও একবার সামনে এনেছে। পাকিস্তান যেখানে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে, সেখানে ভারত বলছে, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনড় থাকায় এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে কেবল দুই দেশের বাণিজ্যিক এবং সামরিক উড়োজাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি না হলে এই ধরনের সমস্যা চলতে থাকবে। কেবল আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা নয়, অন্য অনেক ক্ষেত্রেও এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে। এই সংকটের সমাধান কেবল তখনই সম্ভব, যখন দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকবে, যা উভয় দেশের জন্যই ক্ষতির কারণ। এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।