মেলবোর্নে হঠাৎ দেখা, বাংলাদেশের অভিনেতাকে বুকে টেনে নিলেন আমির খান!

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশির দুই যমজ সন্তান সৌম্য জ্যোতি ও দিব্য জ্যোতি এখন শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ। পড়াশোনার পাশাপাশি নাটক, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমায় সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন তারা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী হলেন ছোট ছেলে দিব্য। সেখানকার রাস্তায় হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গেল তার স্বপ্নের নায়ক, বলিউড সুপারস্টার আমির খানের সঙ্গে।

মাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে দিব্যর এই দারুণ অভিজ্ঞতা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহনাজ খুশি নিজেই এই আনন্দময় মুহূর্তটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি আমির খানের সঙ্গে দিব্য জ্যোতির একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে, দিব্য তার স্বপ্নের নায়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। দিব্যর পরনে শার্টের ওপর একটি ফুল স্লিভ সোয়েটার, কাঁধে ব্যাগ। আর আমির খান পরেছেন কালো কুর্তা ও সাদা পাজামা। হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন দুজন।

শাহনাজ খুশি তার পোস্টে লেখেন, “অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রাস্তায় দিব্যর স্বপ্নের নায়ক আমির খানের সঙ্গে হঠাৎ দেখা!” এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে দিব্য নিজেকে বাংলাদেশের একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আমির খানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পান। স্বভাবতই, স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে দেখা হওয়ায় ছবি তোলার সুযোগটি হাতছাড়া করেননি দিব্য।

এই কথোপকথনের এক পর্যায়ে দিব্য জানান যে তিনি ভারতের প্রখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় একটি সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই কথা শুনে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত আমির খান অত্যন্ত আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। শ্যাম বেনেগালের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা রয়েছে। তিনি দিব্যর পিঠ চাপড়ে দিয়ে আদর করেন এবং উৎসাহ দেন। শাহনাজ খুশি জানান, শ্যাম বেনেগাল স্যারের প্রতি আমির খানের এই ভক্তিসুলভ আচরণ এবং গর্ব তাকে মুগ্ধ করেছে।

এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে দিব্য অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন। শাহনাজ খুশি তার পোস্টে আরও বলেন, “অচেনা-অখ্যাত একজন শিল্পীর প্রতি আমির খানের মতো একজন শিল্পীর এমন বিনয় নিশ্চয় দিব্যর জন্যও শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।” আমির খানের এই বিনয় এবং আন্তরিকতা কেবল দিব্যকেই নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। এই ঘটনাটি দিব্যর শিল্পীজীবনে এক নতুন প্রেরণার সঞ্চার করবে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে সাহায্য করবে।

বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশির পরিবারে অভিনয়, শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক দারুণ আবহ বিরাজ করে। তাদের সন্তানরা সেই আবহেই বড় হয়েছে। বাবা-মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে সৌম্য ও দিব্য নিজেদেরকে একজন পরিপূর্ণ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলছে। মেলবোর্নে আমির খানের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা দিব্য জ্যোতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে