সৌদি আরবে বিড়ি পাচার করে দেশে সোনা আনায় ধরা খেলেন এজেন্সি মালিক

হজ ও ওমরাহ ফেয়ার ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হজ এজেন্সিগুলোর একটি বড় অংশের অসৎ কার্যকলাপে সরকারের নজর এখন আরও কঠোর হচ্ছে। একটি হজ এজেন্সির মালিক ৩ হাজার বিড়ি সৌদিতে পাচার করে, ফেরার পথে প্রায় আড়াই কেজি সোনার বারসহ বিমানবন্দরে ধরা পড়ায় এই অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন অপরাধে জড়িত এজেন্সি এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হজ ও ওমরাহ ফেয়ার ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কিছু এজেন্সি মালিকের এই ধরনের কাজ হজ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা এজেন্সিগুলোকে বাতিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি বলেন, “যেসব এজেন্সি হজযাত্রীদের নিয়ে কাজ করে না, শুধু লাইসেন্স নিয়ে বসে আছে, তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ করবে।”

হজযাত্রীদের হয়রানি বন্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তিনি কঠোর সতর্কবাণী দেন। ড. খালিদ হোসেন বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি কোনো এজেন্সির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বার্তা হজ ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে।

এছাড়াও, হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার উচ্চ মূল্য নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলছে বলে তিনি জানান। হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিমান ভাড়া কমানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যের দিকেও কঠোর নজর রাখা হবে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “গুরুতর অসুস্থ কাউকে হজে যেতে দেওয়া হবে না। কারণ, অসুস্থতার কারণে তারা নিজে যেমন কষ্ট পান, তেমনি অন্যদের জন্যও সমস্যা তৈরি হয়।” এই সিদ্ধান্তটি মূলত হজযাত্রার সময় অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আরও জানান যে, ২০২৬ সাল থেকে হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে হজ প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা যায়।

এই সমস্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন হজযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে চাইছে, তেমনি অন্যদিকে অসৎ এজেন্সিগুলোর অপতৎপরতা বন্ধ করে হজ ব্যবস্থাপনার সম্মান এবং সুনাম রক্ষা করতে চাইছে। ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনের এই বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে হজ ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।