প্রতিনিধি ২০ অগাস্ট ২০২৫ , ১:০৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
খাবারের স্বাদ বাড়াতে ঘিয়ের জুড়ি নেই, পাশাপাশি এটি শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। রান্নায় বা রুটির সঙ্গে সামান্য ঘি মিশিয়ে খেলে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও সুস্থ থাকে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, সবকিছু যেমন পরিমিত খাওয়া ভালো, তেমনি ঘি-ও পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত ঘি খেলে শরীরের কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ঘি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। তাই প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে ঘি খেলে শরীরের ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য ঘি পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ওজন বাড়লে তা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ঘিয়ের পরিমাণ সীমিত করা প্রয়োজন।
ঘি-তে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমলে তা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে, এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনীতে প্লাক জমতে শুরু করে, যা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত ঘি খাওয়ার ফলে কেবল কোলেস্টেরল নয়, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট সরাসরি কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমিয়ে রক্ত চলাচলকে ব্যাহত করে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে বা হৃদপিণ্ডের সমস্যা থাকলে ঘি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি।
অতিরিক্ত ঘি খেলে হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যদিও অল্প পরিমাণে ঘি হজমে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে তা পেটে অস্বস্তি, ফোলাভাব এবং বদহজমের কারণ হতে পারে। যাদের হজমতন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের জন্য অতিরিক্ত ঘি খাওয়া সমস্যার কারণ হতে পারে।
যেকোনো খাবারের মতো, ঘি-ও পরিমিত পরিমাণে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে কোনো কিছু অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তার খারাপ প্রভাবও দেখা দিতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য পরিমিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য।