প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৫৩ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
রমজান মাস শুরুর আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, “ভোটগ্রহণের ৬০ দিন আগে আমরা তফসিল ঘোষণা করব।” তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, “আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে আগামী ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হতে পারে। তবে রমজানের শুরুটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এই হিসাব অনুযায়ী, আপনারা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বের করতে পারেন।”
গণপরিষদ ও গণভোটের দাবির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো কিছু ভাবার সুযোগ নেই।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন এখন কেবল জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দেশে এখন অন্য কোনো রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ নেই এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। দেশের সাধারণ মানুষও একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, সব দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচনের তারিখ এবং তফসিলের দিকে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণ এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়, যখন তফসিল ঘোষিত হবে এবং নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখবে, অন্যদিকে দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের পথ সুগম করবে। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে। তবে, রমজানের শুরুটা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এখন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়। ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করাসহ সব কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের কথায় এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তারা বদ্ধপরিকর।
সব মিলিয়ে, ইসি সচিবের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে এবং সবার মনোযোগ এখন কেবল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে।