প্রতিনিধি ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১:১৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পল্টন এলাকায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে একই দিনে সন্ধ্যায়ও একই স্থানে দু’পক্ষের মধ্যে একবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সঙ্গেও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও গণ অধিকার পরিষদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
আহতদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ (৩২), সদস্য হাসান তারেক (২৮), ঢাকা উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা কিবরিয়া (৩০) এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মেহবুবা ইসলাম (৩০) রয়েছেন। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে একজন পরিদর্শক আনিসুর রহমান (৪২) আহত হয়েছেন।
গণ অধিকার পরিষদের একজন নেতা, ইমরান, সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা যখন একটি মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে থেকে আমাদের ওপর হঠাৎ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমাদের চারজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।”
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিজয়নগর এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় গণ অধিকার পরিষদের চারজন সদস্য এবং একজন পুলিশ পরিদর্শককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। তাদের আঘাতের ধরন গুরুতর, তবে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”
সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের নজর রাখা উচিত।
এই সংঘর্ষের কারণ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে গণ অধিকার পরিষদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে জাপা’র পক্ষ থেকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
আহত নুরুল হক নুর এবং তার দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, পুলিশ পরিদর্শকের সুস্থতাও কাম্য। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য পুলিশ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার অভাব এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা যদি আরও দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব।