প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৪৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০২৫ – রাজধানীর শাহবাগে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে, যখন শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে, যখন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই তাদের ওপর হামলা চালায়।
আহত শিক্ষার্থীদের একজন জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনো সুযোগ না দিয়ে আমাদের ওপর টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর লাঠিচার্জ শুরু করে, যাতে আমাদের অনেক বন্ধু আহত হয়েছেন।” এই হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার সামিল।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে জোর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রথমে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা তা শোনেননি এবং আমাদের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করেন, যার ফলে আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের সীমিত বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
এই ঘটনার পর শাহবাগ এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এমন পুলিশি হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা যোগ করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে পুলিশের এমন বলপ্রয়োগের ঘটনা বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হচ্ছে। সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।