প্রতিনিধি ১২ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:৪০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে কাটানো সময় বা ‘স্ক্রিন টাইম’ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলে শিশুদের আচরণগত সমস্যা, ঘুমের অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। বিশ্বখ্যাত স্নায়ুবিজ্ঞানী ব্যারোনেস সুসান গ্রিনফিল্ডের মতো কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, স্ক্রিন ব্যবহার কিশোরদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। অ্যাপলের স্টিভ জবস ও মাইক্রোসফটের বিল গেটসের মতো প্রযুক্তি জগতের পথিকৃৎরাও নিজেদের সন্তানদের স্ক্রিন ব্যবহারে কঠোর সীমারেখা টেনেছিলেন।
তবে, সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় এই উদ্বেগের বিরুদ্ধে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিট এটচেলস, যিনি স্ক্রিন টাইম ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শত শত গবেষণা বিশ্লেষণ করেছেন, তিনি তার বইয়ে দাবি করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভয়ঙ্কর শিরোনামগুলোর পেছনের বিজ্ঞান অনেকটাই দুর্বল এবং ভুল তথ্যে ভরা।
আমেরিকান সাইকোলজি অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণাও একই কথা বলছে। তারা দেখতে পান, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও গেমের মতো স্ক্রিন ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় খুব সামান্যই ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় ঘুমের ওপর স্ক্রিনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হলেও, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় এর সপক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন টাইম নিয়ে বেশিরভাগ তথ্য ‘আত্মপ্রতিবেদনের’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যা নির্ভরযোগ্য নয়। এছাড়াও, স্ক্রিন ব্যবহারের প্রকৃতি (যেমন: শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক বা সামাজিক) ও পরিবেশের (একা না বন্ধুদের সাথে) ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। যেমন, একাকীত্ব শিশুদের মানসিক সমস্যার মূল কারণ হতে পারে, শুধু স্ক্রিন টাইম নয়। তবে, ইন্টারনেটে শিশুদের সাইবার বুলিং ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখার মতো কিছু গুরুতর ঝুঁকির ব্যাপারে সকলেই একমত।
তাহলে কি আমরা শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত ভুলভাবে নিচ্ছি? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায়, অভিভাবকরা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। যদি স্ক্রিন সত্যিই শিশুদের ক্ষতি করে, তবে সেই প্রমাণ পেতে আরও অনেক বছর লেগে যেতে পারে। আবার যদি প্রমাণ হয় যে এটি ততটা ক্ষতিকর নয়, তবে আমরা হয়তো শিশুদের একটি উপকারী প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য মূল্যবান সময় নষ্ট করব।