প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:৪৬ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার রাতে আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গুলশানের বাসভবনে ফিরেছেন। রাত ৮টা ২০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রায় রাত পৌনে ১২টার দিকে বাসায় ফেরেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসের মতো একাধিক রোগে ভুগছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারি মাসে তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। লন্ডনের ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি এবং অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি তার নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন। সেখানেও এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। তার এই স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো নিয়মিত চিকিৎসারই অংশ এবং চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসার এই ধারাবাহিকতা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরেও তার চিকিৎসাব্যবস্থা সুসংগঠিতভাবে চলছে, যা তার সুস্থতার জন্য ইতিবাচক দিক। যদিও তার রোগের জটিলতাগুলো এখনো সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য নয়, তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বর্তমানে তিনি যে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আছেন, তাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। এটি নিশ্চিত করে যে তার চিকিৎসার প্রতিটি দিক সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং জনমনে সব সময়ই গভীর আগ্রহ থাকে। তার শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত প্রতিটি খবরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে তার হাসপাতালে যাওয়া এবং ফিরে আসার ঘটনাটিও এর ব্যতিক্রম নয়। বিএনপি নেতা-কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তার বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, চিকিৎসকেরা তার সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।