প্রতিনিধি ১৪ অগাস্ট ২০২৫ , ১২:৫৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানেই হাজারো রোগের আগমন। হৃদরোগ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস—সবকিছুর ঝুঁকিই বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কিন্তু সব কোলেস্টেরলই যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। আমাদের শরীরে এক ধরনের ভালো কোলেস্টেরলও থাকে, যা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ভালো কোলেস্টেরলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (HDL)।
খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) রক্তনালীতে জমে গিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের প্রধান কারণ। অন্যদিকে, এইচডিএল কোলেস্টেরল খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে ধমনী পরিষ্কার রাখে। তাই শুধু খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর চেষ্টা না করে, ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া উচিত। কিছু সহজ জীবনযাত্রার পরিবর্তন এনে আমরা সহজেই এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারি।
ধূমপান ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। একইভাবে, অতিরিক্ত মদ্যপানও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্থ থাকতে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা উচিত।
শরীরের জন্য উপকারী ফ্যাট এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আপনার খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। যেমন—
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে শরীরে ক্যালোরি এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। চিপস, নরম পানীয়, ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চললে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমে আসে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
নিয়মিত ব্যায়াম ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। অ্যারোবিক ব্যায়াম বা ভারি শরীরচর্চা এক্ষেত্রে খুব উপকারী। যদি ভারি ব্যায়াম করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটা বা সাঁতার কাটার মতো হালকা ব্যায়ামও দারুণ ফল দেবে।
এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার জীবনযাত্রায় নিয়ে এলে শুধু ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়বেই না, বরং আপনি সামগ্রিকভাবে আরও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কমাতে পারবেন।