দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরু, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের সদস্যরা আদালতে

ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, তাঁর মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের (ববি) বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই তিনটি পৃথক মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করেছে।

আজ, বুধবার (১৩ আগস্ট, ২০২৫) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তরিকুল ইসলাম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একজন সদস্য (এমপি) এবং দেশটির সাবেক ‘সিটি মিনিস্টার’। তিনি এখন বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

এর আগে গত ১১ আগস্ট একই ধরনের অপর তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছিল।

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ: মামলার প্রেক্ষাপট

 

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মোট ছয়টি পৃথক মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১১ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন। বাকি তিনটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৩ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম।

মামলায় শেখ হাসিনা পরিবারের বাইরে অভিযুক্ত অন্য ১৬ জন হলেন:

  • জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ
  • গণপূর্তের তৎকালীন সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার
  • অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন
  • জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার
  • রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া
  • সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য কবির আল আসাদ, সদস্য তন্ময় দাস, সদস্য নুরুল ইসলাম
  • সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী
  • পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান
  • প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন
  • গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার

 

দুর্নীতির অভিযোগের বিস্তারিত

 

দুদকের পিপি খান মো. মইনুল হোসেনের মতে, রাজউকের বিধান অনুযায়ী, ঢাকায় যাঁদের কোনো প্লট, গাড়ি বা বাড়ি নেই, কেবল তাঁরাই প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা রাজউকের কাছে মিথ্যা হলফনামা জমা দেন। সেখানে তাঁরা দাবি করেন যে, ঢাকায় তাঁদের কোনো জমি বা বাড়ি নেই। তবে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, শেখ হাসিনা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে একাধিক বাড়ি, জমি এবং গাড়ি আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁরা রাজউকের ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন, যা আইনত অপরাধ। এই অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গসহ অন্যান্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

দুদকের পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের ছয় মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর মামলাগুলো বিচারের জন্য দুটি ভিন্ন বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেন ঢাকা মহানগরীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ১০ মার্চ ছয়টি মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।