পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ: ডিএমটিসিএলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদ

ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৫ – ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতে বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়া।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমটিসিএলের সেকশন ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ‘অযৌক্তিক রিট’ দায়ী। শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদেই নয়, বরং দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে তারা মনে করছেন, তার বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলছেন। এই বিক্ষোভে দেশের সকল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, ডিএমটিসিএল একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-১১-এর আওতাধীন সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (ক্রমিক ৯-১৮) পদসমূহের জন্য ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বুধবার সন্ধ্যায়, পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) গেটের সামনেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে।

জানা গেছে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে ডিএমটিসিএলের ১০ ধরনের প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে সীমিত করছে এবং তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তারা মনে করেন, এই ধরনের আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক।

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষার স্থগিতের প্রতিবাদ নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের হতাশা এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করার পর কর্মক্ষেত্রে তাদের যে ধরনের বাধা এবং বৈষম্যের শিকার হতে হয়, এই বিক্ষোভ তারই প্রতিফলন। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে তাদের নিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা সীমিত করার চেষ্টা চলছে।

এই বিক্ষোভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চাইছে। তাদের প্রধান দাবি হলো, স্থগিত হওয়া পরীক্ষা দ্রুত পুনরায় শুরু করা এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ সকল যোগ্য প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত রাখা। তারা আশা করছেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করবে এবং এমন একটি সমাধান বের করবে যা কারিগরি শিক্ষার প্রতি তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

ডিএমটিসিএল এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক আন্দোলন এখন জনসমক্ষে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে: কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে? এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।