পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের আগে ইউক্রেনে আরও ভূমি দখলের দাবি রাশিয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের আগে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেমলিন দাবি করেছে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের দুটি নতুন বসতি দখল করেছে। এই খবরটি এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক মহলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনার একটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় যে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ইস্করা গ্রাম এবং শেরবিনিভকা নামের ছোট শহরটি দখল করে নিয়েছে। দোনেৎস্ক এমন একটি অঞ্চল, যা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি করেছিল।

শেরবিনিভকা শহরটি খনি সমৃদ্ধ শহর টোরেৎস্কের কাছে অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ সেনারা টোরেৎস্কও দখল করে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ সেনারা ইউক্রেনের অনেকগুলো ভূমি দখল করেছে, যা যুদ্ধের গতিপথকে রাশিয়ার অনুকূলে নিয়ে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন যে, রুশ বাহিনী দোব্রোপিলিয়া কয়লা খনি শহরের কাছে সম্মুখযুদ্ধের একটি সংকীর্ণ অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এই অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (ISW) গত এক বছরের মধ্যে একদিনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সামরিক অগ্রগতি একদিকে যেমন ইউক্রেনের জন্য একটি বড় ধাক্কা, তেমনি অন্যদিকে এটি ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোস্তভ-অন-দন-এ একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। স্থানীয় গভর্নর ইউরি স্লিউসার টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ১০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরেও হামলা চালাতে সক্ষম।

এর প্রতিক্রিয়ায়, রুশ সেনারা দাবি করেছে যে তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং চারটি গ্লাইড বোমা ধ্বংস করেছে। এটি তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা তুলে ধরে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে, রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে দুজন এবং খেরসন অঞ্চলে একজন আহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে এটি শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে। পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক এই সংকট নিরসনে কোনো নতুন পথ দেখাবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। তবে, ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত ভূমি দখল এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, এই সংঘাতের কোনো সহজ সমাধান নেই।