নতুন আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন: বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’

দক্ষিণ কোরিয়ার মর্যাদাপূর্ণ বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে (BIFF) এবার যুক্ত হলো এক নতুন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার, যার নাম ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে, যা ৩০তম বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবে প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে এই সম্মাননা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে এই পুরস্কারটি চালু করা হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই পুরস্কারের মাধ্যমে সেইসব নির্মাতা এবং চলচ্চিত্রকে সম্মান জানানো হবে, যারা তাদের কাজের মধ্য দিয়ে এই বিষয়গুলোকে তুলে ধরেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বুসান ফিল্ম ফেস্টিভালের ‘ভিশন এশিয়া’ সেকশনের প্রতিযোগী ছবিগুলোর মধ্য থেকে একটি ছবিকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হবে। যেসব চলচ্চিত্র সামাজিক ন্যায়বিচার, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, অথবা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ থিম নিয়ে নির্মিত, সেগুলোকে এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আরও বেশি করে সমাজ সচেতনতামূলক কাজ করার জন্য উৎসাহিত করবে।

জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজটি বিজয়ী নির্মাতার হাতে তুলে দেওয়া হবে উৎসবের সমাপনী দিনে। এই পুরস্কার কেবল একটি স্বীকৃতিই নয়, বরং এটি সেইসব কণ্ঠকে সম্মান জানায়, যারা সিনেমাকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের নানা অসাম্য এবং অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে।

বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে পরিচিত। এটি নতুন নির্মাতাদের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম এবং এশিয়ার চলচ্চিত্রের অগ্রগতিতে এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এমন একটি উৎসবে ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’-এর মতো একটি পুরস্কার প্রবর্তন বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিশেষ করে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা যারা তাদের সিনেমার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান, তাদের জন্য এই পুরস্কারটি এক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজকে প্রভাবিত করার এবং পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালের এই যৌথ উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। এটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ‘জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ এমন এক সময়োচিত পদক্ষেপ, যা সিনেমাকে তার সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।