সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের চোখে ‘আত্মমর্যাদা’: ‘লাইক-কমেন্ট নয়, নিজের ভেতর থেকে আসুক আত্মসম্মান’

বর্তমান যুগে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের সকাল শুরু হয় ফেসবুকের নোটিফিকেশন দেখে, আর দিনের শেষ হয় ইনস্টাগ্রামে অন্যদের ছবি দেখে। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই নিজেদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানকে বিচার করেন। এই ডিজিটাল দুনিয়ায় ভার্চুয়াল “স্বীকৃতি” যেন এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। কিন্তু এই স্রোতের বিপরীতে গিয়ে একেবারে ভিন্ন এক বার্তা দিলেন বলিউড ডিভা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তিনি মনে করেন, মানুষের আত্মসম্মান কোনোভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়, বরং তা আসা উচিত নিজের ভেতর থেকে।

সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় প্রসাধনী ব্র্যান্ডের ‘লেসনস অব ওর্থ’ সিরিজের নতুন একটি ভিডিওতে ঐশ্বরিয়া রাই নিজের আত্মসম্মান নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লাইক বা কমেন্টের মতো বাহ্যিক অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করে আত্মসম্মান তৈরি হয় না। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা নিজেদের ভেতর থেকে উপলব্ধি করতে হয়।

ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিভাবে মানুষের আত্মমূল্যায়নকে প্রভাবিত করছে, তা দেখে আমি সত্যিই চিন্তিত। অনেকেই লাইক আর কমেন্টের ওপর নির্ভর করে নিজেদের স্বীকৃতি খোঁজে। কিন্তু সত্যিকারের মূল্যবোধ বা আত্মমর্যাদা কখনো অনলাইন অনুমোদনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।’

একজন অভিনেত্রী হিসেবে যেমন, তেমনি একজন মা হিসেবেও এই প্রবণতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ আর সমাজের চাপ প্রায় একই রকম। এটি শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রভাবিত করছে, যা খুবই গুরুতর একটি বিষয়।

ঐশ্বরিয়া এই ভিডিওতে মানুষকে অনুরোধ করেছেন যেন অনলাইনে স্বীকৃতি খোঁজা বন্ধ করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মানুষের আত্মসম্মান ভেতর থেকেই আসে, বাইরে থেকে নয়।’ তিনি দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা সচেতনভাবে নিজেদের ভেতরে উত্তর খুঁজে নেয়। ভিডিওর শেষে তিনি খুব সুন্দরভাবে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা এর যোগ্য’, এবং এটি যেন ভেতর থেকে বিশ্বাস করা হয়।

ঐশ্বরিয়ার এই আন্তরিক বার্তা তার ভক্তদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তার অনুরাগীরা ইতিবাচক মন্তব্য আর প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘আমার ইচ্ছে হয় পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ যদি তাঁর এই কথাগুলো বুঝতে পারত।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘খুব সুন্দর কথা বলেছেন তিনি। আর এটি ঐশ্বরিয়ার মতো একজন মানুষের কাছ থেকে আসাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ অনেকেই তাকে ‘কুইন’ বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কেউ কেউ তার অসাধারণ সৌন্দর্যেরও প্রশংসা করেছেন।

সিনেমার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ঐশ্বরিয়াকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল পরিচালক মণি রত্নমের আলোচিত সিনেমা ‘পোন্নিয়িন সেলভান’-এ। যদিও তার পরবর্তী কোনো প্রজেক্টের ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে সম্প্রতি স্বামী অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিচ্ছেদের গুঞ্জন মিথ্যা প্রমাণ করে তারা মেয়েকে নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
এই ডিজিটাল যুগে ঐশ্বরিয়ার এই বার্তা সত্যিই অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তার এই উপলব্ধি হয়তো অনেককেই তাদের আত্মসম্মান ও আত্মমূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।