বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রশংসা, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

গতকাল, মঙ্গলবার বেলা ২টায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এই সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

সাক্ষাতের শুরুতেই ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে তার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। তিনি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জনে প্রধান বিচারপতির নিরলস প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সারাহ কুক মনে করেন, গত এক বছরে প্রধান বিচারপতির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিচার বিভাগের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপ এবং ১২ দফা নির্দেশনাকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও জনগণের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। সারাহ কুক আশা প্রকাশ করেন যে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই সৌজন্য সাক্ষাতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। গত ১৪ আগস্টও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎগুলো বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ এবং আস্থার প্রতিফলন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যে পথে এগিয়ে চলেছে, তা দেশের সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করবে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের এই সফর সেই বিশ্বাসকেই আরও শক্তিশালী করল।