ডলারের দাম কমেছে, তবে কি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে প্রবাসীরা?

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রম করে যে অর্থ দেশে পাঠান, তা আমাদের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখে। প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর সময় প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখেন মুদ্রার বিনিময় হারের। কারণ, এই বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে তাদের পাঠানো অর্থের মূল্য।

আজ ২১ আগস্ট, ২০২৫, বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী দেশের মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ডলারের সর্বনিম্ন দাম দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১২১ টাকা ৫৫ পয়সা। এর গড় বিনিময় হার হলো ১২১ টাকা ৪৯ পয়সা। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল বা হ্রাস পেলে দেশে তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা তাদের পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে সহায়ক হয়।

শুধুমাত্র ডলার নয়, অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিনিময় হারও প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজ ব্রিটিশ পাউন্ড স্টারলিং কেনার ক্ষেত্রে দাম ছিল ১৬৩ টাকা ৮৭ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে দাম ছিল ১৬৩ টাকা ৯৯ পয়সা। অন্যদিকে, ইউরো কেনার ক্ষেত্রে দাম ছিল ১৪১ টাকা ৪৭ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে দাম ছিল ১৪১ টাকা ৫৬ পয়সা। এই হারগুলো দেখে বোঝা যায়, ডলারের পাশাপাশি পাউন্ড এবং ইউরোর বিনিময় হারও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ভিন্ন হওয়ায় প্রবাসীদের জন্য এটি একটি জটিল বিষয়। তাই তাদের সুবিধার জন্য আজকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার নিচে একটি সারণিতে তুলে ধরা হলো:

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা)
ইউএস ডলার ১২১.০০ ১২২.৩০
পাউন্ড ১৬০.৫৯ ১৬৭.৩১
ইউরো ১৩৮.৬৭ ১৪৪.৪৪
জাপানি ইয়েন ০.৮১ ০.৮৪
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৭৭.৮৮ ৭৮.৭০
সিঙ্গাপুর ডলার ৯২.৭১ ৯৬.৫৯
কানাডিয়ান ডলার ৮৭.২৩ ৮৮.১৬
ইন্ডিয়ান রুপি ১.৩৯ ১.৪০
সৌদি রিয়েল ৩২.২৫ ৩২.৫৯

উপরে দেওয়া সারণি থেকে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে। এই পার্থক্য বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, মুদ্রানীতি, ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-যোগানের ওপর নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওঠানামা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। তবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের ওপর ভিত্তি করে এই হার ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রবাসীদের উচিত, তাদের অর্থ লেনদেনের সময় সর্বদা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করে নেওয়া।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে যে বিশাল ভূমিকা রাখছে, তা অনস্বীকার্য। সরকারও এই রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা প্রদান, বৈধ পথে অর্থ প্রেরণের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো প্রবাসীদের অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করছে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।

এই ধরনের তথ্য প্রবাসীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা দেশের অর্থনীতির স্পন্দন অনুভব করতে পারেন এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য পেতে পারেন। ডলারের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য মুদ্রার দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।