হামজা চৌধুরীর স্বপ্নময় শুরু, কিন্তু শেষটা হলো বিষাদে
নতুন মৌসুমের শুরুটা হামজা চৌধুরীর জন্য হতে পারত রূপকথার মতো। তিনি দারুণ এক গোল করে তার দল লেস্টার সিটিকে এগিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তার সেই অসাধারণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও লেস্টার সিটি শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় বিভাগের দল হাডার্সফিল্ডের কাছে। কারাবাও কাপের এই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে হাডার্সফিল্ড। হামজা চৌধুরীর জন্য এটি এক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তার পায়ের জাদু দেখা যায়। ৫৪তম মিনিটে, প্রতিপক্ষের ক্লিয়ার করা একটি বল তার পায়ে এসে পড়ে। বক্সের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা হামজা মুহূর্ত দেরি না করে ডান পা দিয়ে এক দুর্দান্ত শট নেন। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলটি শুধু তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল দিকই নয়, লেস্টার সিটিকেও এগিয়ে দেয়।
কিন্তু খেলার মোড় ঘুরে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। গোলের নায়ক হামজা চৌধুরী এবার হয়ে উঠলেন ভিলেন। নিজেদের বিপদসীমায় তিনি প্রতিপক্ষের এক ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন। ফলস্বরূপ, হাডার্সফিল্ড একটি পেনাল্টি পায় এবং সেখান থেকে গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে। লেস্টার সিটি আবার এগিয়ে গেলেও, সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি।
পুরো ম্যাচ জুড়ে লেস্টার সিটির খেলায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। তারা বারবার লিড নিয়েও সেটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। এতে করে খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে হামজা চৌধুরী পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু তার দলের বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে মাত্র দুজন সফল হন। অন্যদিকে, হাডার্সফিল্ড একটি পেনাল্টি মিস করলেও বাকি তিনটি পেনাল্টি থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করে।
৩-২ গোলের এই পরাজয় লেস্টার সিটি এবং বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। দুর্দান্ত গোলের পরও দলের এই হার তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দিয়েছে। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এমন একটা পরাজয় দলের মনোবল ভেঙে দিতে পারে, তবে হামজার মতো তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা। তাকে ভবিষ্যতে তার ভুল থেকে শিখতে হবে এবং আরও সতর্ক থাকতে হবে। এই হার লেস্টার সিটির জন্য একটি সতর্কবার্তা, কারণ তাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।