পলায়ন’ : ১৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন রশীদসহ ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘পলায়ন’ অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের (পুলিশ-১ শাখা) সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা যায়। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশে বলা হয়েছে, এই ১৮ পুলিশ কর্মকর্তা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ‘পলায়ন’ এর শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাই নামের পাশে উল্লিখিত তারিখ থেকে তাঁদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তাঁরা খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের তালিকা:

  • মোহাম্মদ হারুন রশীদ (সাবেক ডিএমপি ডিবি প্রধান)
  • মো. রফিকুল ইসলাম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. সাইফুল ইসলাম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. মশিউর রহমান (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আবুল কালাম আজাদ (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. শফিকুল ইসলাম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আনোয়ার হোসেন (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আকবর আলী (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আব্দুল মান্নান (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আতাউর রহমান (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. শামসুল হক (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. নাসির উদ্দিন (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. জাহাঙ্গীর আলম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. শহিদুল ইসলাম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. মিজানুর রহমান (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. জহিরুল ইসলাম (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. আবু বকর সিদ্দিক (পুলিশ পরিদর্শক)
  • মো. মোশাররফ হোসেন (পুলিশ পরিদর্শক)

এই পদক্ষেপটি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বহন করে, যেখানে নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি যে একটি গুরুতর অপরাধ, তা এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।

উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ সরকারি সেবার মান এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। এটি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। এই সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাটি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, যেন তাঁরা ভবিষ্যতে এমন গুরুতর অপরাধ থেকে বিরত থাকেন।