কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শে বিষক্রিয়া: হাসপাতালে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
নিউইয়র্ক, ২৫শে জুলাই – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি-এর দেওয়া খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে সোডিয়াম ব্রোমাইড গ্রহণ করার ফলে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত চিকিৎসা সাময়িকী ‘অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এড়াতে তাঁর খাদ্যে ক্লোরাইড উপাদানের বিকল্প খুঁজছিলেন। চ্যাটজিপিটি-র পরামর্শে তিনি বিশ্বাস করেন যে, সোডিয়াম ব্রোমাইড একটি নিরাপদ বিকল্প। তিনি টানা তিন মাস ধরে এটি গ্রহণ করতে থাকেন, যার ফলে তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। মজার বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটি ক্ষতিকর এই উপাদানটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তাকে কোনো রকম সতর্কবার্তা দেয়নি।
গুরুতর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ নিয়ে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। তার লক্ষণের মধ্যে ছিল অতিরিক্ত তৃষ্ণা সত্ত্বেও পানি পানে অনীহা, হ্যালুসিনেশন (এমন কিছু দেখা বা শোনা যার কোনো অস্তিত্ব নেই) এবং মানসিক অস্থিরতা। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (শিরায় তরল প্রবেশ করানো) ও অ্যান্টি-সাইকোটিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন।
সুস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তি চিকিৎসকদের জানান যে, তিনি চ্যাটজিপিটি-র পরামর্শে সোডিয়াম ব্রোমাইড গ্রহণ শুরু করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, এটি তার জন্য একটি নিরাপদ বিকল্প। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিয়ে আসে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্রোমাইড উপাদানটি এক সময় উদ্বেগ ও অনিদ্রার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। কিন্তু এর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে কয়েক দশক আগেই এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি শুধুমাত্র পশুদের চিকিৎসা এবং কিছু শিল্পজাত পণ্যে ব্যবহৃত হয়।
প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকরা সকলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেকোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন যে, চ্যাটবট বা এআই টুল থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর চোখ বন্ধ করে নির্ভর করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন এটি স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো বিষয় হয়। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন পেশাদার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা অপরিহার্য।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের যুগে আমাদের তথ্যের উৎস এবং তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলতে পারে, তেমনি অসতর্ক ব্যবহার আমাদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।