সাত জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই সতর্কবার্তা অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার — এই সাতটি জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের এই ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এই সংকেত সাধারণত আবহাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নৌযান পরিচালনাকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। বিশেষ করে ছোট নৌযানগুলোকে নদীপথে চলাচল করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বর্ষাকালে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই সময়টাতে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে, যা নদীপথের যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, বরিশাল এবং পটুয়াখালী — এই জেলাগুলোতে এই ধরনের আবহাওয়া বেশ স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ করে বাতাসের গতি বেড়ে গেলে এবং বজ্রপাত শুরু হলে তা জনজীবনের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে হলে খোলা জায়গা, উঁচু গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকা উচিত। একই সঙ্গে নৌপথে চলাচলকারীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

বর্ষার বৈরী রূপ: সাত জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির তাণ্ডব

 

ঢাকা: বর্ষাকাল তার স্বভাবসিদ্ধ বৈরী রূপ দেখাতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় দেশের সাতটি জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জনজীবন ও নৌচলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার—এই জেলাগুলোতে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়ার এই বিশেষ পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। এসব এলাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে, যা নদীপথকে বিপজ্জনক করে তুলবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এই সময়ে নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ছোট লঞ্চ, ট্রলার, এবং নৌকাগুলোকে নিরাপদ স্থানে নোঙর করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের অস্থির আবহাওয়া দেখা যায়। এই মৌসুমি বায়ু প্রবাহ অনেক সময় ঝড়ো হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে ব্যাহত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের আবহাওয়ায় বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই বাইরে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, উঁচু গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকা উচিত। ঘরের ভেতর থাকলে জানালা বন্ধ রাখা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

এই সতর্কবার্তাটি স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জন্য এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো নতুন তথ্যের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।

এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি minimized করা যায়।