অভিনেত্রী সাদিয়া তানজিন: বড় পর্দায় সাহসী চরিত্রের নেপথ্যে স্বামীর অনুপ্রেরণা
অভিনয় জগতে নিজের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া তানজিন। ছোট পর্দায় তার সাবলীল অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে বহুবার। তবে সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন বড় পর্দায় তার সাহসী পথচলার জন্য। রাশিদ পলাশ পরিচালিত ‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিতে এক বোল্ড চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শুধু প্রশংসিতই হননি, বরং নিজের অভিনয়ের ভিন্ন এক মাত্রা উন্মোচন করেছেন। এই সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তার জীবনসঙ্গী, অর্থাৎ স্বামীকে।
ছোট পর্দায় জাকারিয়া সৌখিনের ‘তোমাকে আসতেই হবে’ নাটকের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের শুরু। ধীরে ধীরে তিনি নাটকের এক পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিটি। এই ছবিতে তার চরিত্রটি ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং এবং সাহসী। যেখানে তার চরিত্রটি এমন এক নারীর, যিনি স্বামীর প্যারালাইজড হওয়ার পর তার মাদক ব্যবসার হাল ধরেন এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একজন ওসির সঙ্গে সব কিছু করতে বাধ্য হন। এমন একটি বোল্ড চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্বিধায় ছিলেন সাদিয়া। কিন্তু তার স্বামী তাকে দারুণভাবে সমর্থন দেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া বলেন, “আমি সব সময় একটু ভিন্নমাত্রার কাজ করতে ভালোবাসি। তবে এমন সাহসী চরিত্রে কাজ করার পেছনে সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমার স্বামীর।” তিনি জানান, যখন তাকে এই চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন নির্মাতার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি দুই দিন সময় নেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন কাজটি করবেন না। কিন্তু গল্পটি তার এতটাই ভালো লেগেছিল যে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন।
তার স্বামী তাকে শুধু কাজটি করার পরামর্শই দেননি, বরং তাকে সাহস দিয়েছেন। সাদিয়া বলেন, “সে আমাকে বলে, ‘অবশ্যই তুমি কাজটা করবে। তুমি যে অভিনয় পারো, তোমার যে অভিনয়ের একটা যোগ্যতা আছে, সেটাই তো প্রকাশ করবা।'” এই কথাগুলো তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে তিনি কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন।
‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিতে সাদিয়ার এই চরিত্রটি শুধু তার অভিনয়ের গভীরতাই প্রকাশ করেনি, বরং সমাজে প্রচলিত ট্যাবুগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে। একজন নারী যে শুধু কোমল বা রোমান্টিক চরিত্রে সীমাবদ্ধ নন, বরং প্রয়োজনে কতটা শক্তিশালী এবং দৃঢ় হতে পারেন, তা তিনি এই চরিত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।
সাদিয়া তানজিনের এই যাত্রা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাওয়া যায়। একজন শিল্পীর সফলতার পেছনে তার ব্যক্তিগত জীবনের সমর্থন কতটা জরুরি, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। সাদিয়ার স্বামী তাকে শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী হিসেবেই দেখেননি, বরং তার মেধা ও যোগ্যতার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। এই পারস্পরিক সম্মান এবং সমর্থনই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
সাদিয়া তানজিনের এই সাহসী সিদ্ধান্ত এবং তার স্বামীর অনুপ্রেরণা নিঃসন্দেহে অনেক নারী শিল্পীকে নতুন কিছু করার জন্য উৎসাহিত করবে। তার এই যাত্রার গল্প থেকে আমরা শিখতে পারি যে, নিজের স্বপ্ন পূরণে এবং ব্যতিক্রমী কাজ করার জন্য জীবনসঙ্গীর সমর্থন কতটা মূল্যবান। এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একজন অভিনেত্রীর দৃঢ়তা এবং তার জীবনসঙ্গীর অটুট বিশ্বাসের এক দারুণ গল্প।