রাজস্ব প্রশাসনের ইতিহাসে রেকর্ড বদলি: একযোগে ৪১ অতিরিক্ত কর কমিশনারের রদবদল
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে এতজন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বদলি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজস্ব প্রশাসনের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট, ২০২৫) এনবিআর-এর কর প্রশাসন শাখা থেকে এক অফিস আদেশে এই রদবদলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে কর প্রশাসনে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এবং এটি রাজস্ব ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনবিআরের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ৪১ জন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। এই কর্মকর্তাদের অবিলম্বে তাদের নতুন পদে যোগদান করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই ধরনের ব্যাপক রদবদল রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্রের মতে, এই বদলির প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থবিরতা ভাঙা এবং নতুন কর্মস্থলে নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা। সাধারণত, কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকলে সেখানে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, এই আকস্মিক ও বড় ধরনের বদলিকে অনেকে একটি সুচিন্তিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো রাজস্ব প্রশাসনকে আরও বেশি কার্যকর এবং জনগণের কাছে সহজলভ্য করা। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়, যা অনেক সময় কর্মদক্ষতাকে ব্যাহত করে। এই বদলি সেই স্বাচ্ছন্দ্যকে ভেঙে নতুন কর্মপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে আশা করি।”
এই বদলির আদেশ প্রকাশের পর কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি এনবিআর-এর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির একটি অংশ। রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে বিভিন্ন মহল থেকে মত আসছে।
সাধারণত, এনবিআর প্রতি বছরই কর্মকর্তাদের বদলি করে থাকে, তবে একসঙ্গে এতজন অতিরিক্ত কর কমিশনারের বদলি আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর এই কর্মকর্তারা কীভাবে রাজস্ব আদায়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন এবং করদাতাদের জন্য কী ধরনের সুবিধা নিয়ে আসেন, তা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
এনবিআর-এর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে সরকার রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং স্বচ্ছ ও দক্ষ একটি প্রশাসন গঠনে বদ্ধপরিকর।